শ্রদ্ধাঞ্জলি

বাতায়ন / শ্রদ্ধাঞ্জলি / স্যার এডমন্ড হিলারি
স্যার এডমন্ড হিলারি
স্যার এডমন্ড হিলারি
নিউজিল্যান্ডের অভিযাত্রী

জন্ম: জুলাই ২০, ১৯১৯ নিউজিল্যান্ডের ডোমিনিয়ন অকল্যান্ডে মৃত্যু: ১১ জানুয়ারি, ২০০৮ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে...

জন্ম: জুলাই ২০, ১৯১৯ নিউজিল্যান্ডের ডোমিনিয়ন অকল্যান্ডে

মৃত্যু: ১১ জানুয়ারি, ২০০৮ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে

পেশা: পর্বতারোহী, অভিযাত্রী, সমাজসেবী

স্যার এডমন্ড হিলারি কিংবদন্তিতুল্য এক্সপ্লোরার হিসাবে খ্যাত। তাঁর এই এসেছিল খ্যাতি মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে ওঠা প্রথম ব্যক্তি হিসাবে।

স্যার এডমন্ড হিলারি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ২০ জুলাই, ১৯১৯ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে। তিনি খুব অল্প বয়সেই পর্বতারোহণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। শৈশবে তিনি কিছুটা খর্বকায় ছিলেন; এর ফলে তাঁর সহপাঠীরা তাকে জ্বালাতন করত। আর তাই তিনি সমবয়সীদের আড্ডা থেকে সরে বই পড়ায় আত্মমগ্ন হন। বইয়ের সংস্পর্শে এসেই তিনি স্বপ্ন দেখা শুরু করেন দুর্দান্ত সব অভিযানের। ষোলো বছর বয়সে পা দিতে না দিতেই তাঁর দৈহিক বৃদ্ধি সহপাঠীদের ছাড়িয়ে যায়। বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ে রুপহেহু (Ruapehu) পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে পর্বত আরোহণের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি হয়।

 

এমনকি অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কালেও তিনি পর্বতারোহণের বিভিন্ন অভিযানে অংশগ্রহণ করতে থাকেন। ১৯৩৯ সালে, ওলিভিয়ের পর্বতের চূড়ায় ওঠার মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর প্রথম কোনো উল্লেখযোগ্য চূড়ায় ওঠার কাজটি সম্পন্ন কবেন।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে একটু পরে হলেও হিলারিকেও সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদান করতে হয়। তিনি ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে রয়েল নিউজিল্যান্ড বিমানবাহিনীতে যোগ দান করেন, এবং বড় একটি আঘাতে তাঁর সৈনিক জীবনের ইতি ঘটে।

 

৩০ জানুয়ারি, ১৯৮৪-এ হিলারি নিউজিল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পর্বত আওরকি (মাউন্ট কুক) জয় করেন। এতে তিনি বেশ খানিকটা খ্যাতি অর্জন করেন, যা তাঁকে হিমালয় পর্বতমালার একাধিক অভিযানে কিংবদন্তি এরিক শিপটনের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।

 

১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে, হিলারি হিমালয়ে একটি ব্রিটিশ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। এটি ছিল মাউন্ট এভারেস্টে তাঁর প্রথম অভিযান। এর দু-বছর পর ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে তিনি সেই ইতিহাসটাই রচনা করলেন—যা ছিল এতদিন অধরা। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু আর আর বৈচিত্র্যে ভরা মাউন এভারেস্ট জয় করলেন তেনজিং নরগেকে সঙ্গে নিয়ে। রাতারাতি তিনি পরিণত হয়ে গেলেন নায়কে। বাড়ির বসার ঘর, চায়ের টেবিল, খেলার মাঠ, অফিস-আদালত সব জায়গায় তাঁকে নিয়ে আলোচনা। পত্রিকা ম্যাগাজিন আর সব খবরের কাগজে তাঁর মুখচ্ছবি।

 

স্যার এডমন্ড হিলারি শেষ পর্যন্ত আরও অনেক অভিযান অব্যাহত রেখেছিলেন; এমনকি দক্ষিণ মেরুতেও ভ্রমণ করেছিলেন। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি মারা যান। আজ অবধি, তিনি সমস্ত পর্বতারোহণের সন্ধানকারীদের মধ্যে সর্বাধিক বিখ্যাত।