রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা

লেখাঃ চরন্তি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৩

পদ্মার তীর ঘেঁষা এক সময়ের রেসকোর্স ময়দানের ৩২.৭৬ একর জায়গা জুড়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা হয়েছে। রাজশাহী শহর থেকে চিড়িয়াখানার দূরত্ব মাত্র . কিলোমিটার। ১৯৭২ সালে শহীদ এইচ এম কামারুজ্জাম সড়কের কাছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানার নির্মাণ কাজ শুরু হলে ১৯৭৪-৭৬ সালে রাজস্ব বিভাগের অনুমতিক্রমে এখানে চিড়িয়াখানার পাশাপাশি একটি শিশু পার্ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানাটি শহীদ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান চিড়িয়াখানা (Shaheed A.H.M. Kamruzzaman Central Park & Zoo) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে

চিড়িয়াখানার প্রধান প্রবেশ গেইটে বিদ্যমান জিরাফের বিশাল ভাস্কর্য মৎস্য কুমারীর ফোয়ারা নজরে পড়ে। নানারকম ফুল, ফল ঔষধি গাছের ছায়া ঘেরা পার্কের ভিতরে আছে বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য নান্দ্যনিক ব্রিজ সহ একটি ছোট্ট লেক। চিড়িয়াখানায় উল্লেখযোগ্য সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে বাজরিকা, বালিহাস, ঘোড়া, হরিণ, উদবিড়াল, অজগর সাপ, কুমির সহ বিভিন্ন জলজ স্থলজ পশুপাখি। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের এই উদ্যানের কৃত্রিম পাহাড় থেকে পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া পার্কে দর্শনার্থীদের চিত্তবিনোদনের জন্য প্যাডেল বোট, নাগর দোলা সহ বেশকিছু আকর্ষণী রাইড রয়েছে

বর্তমানে এই শিশু পার্কটি রাজশাহী শহরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রাজশাহীর স্থানীয় দর্শনার্থী ছাড়াও প্রতিদিন শিক্ষা সফর বনভোজনের উদ্দেশ্যে এখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী পর্যটকের সমাগম ঘটে

প্রবেশমূল্য সময়সূচী

রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান চিড়িয়াখানা প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল টা পর্যন্ত খোলা থাকে। জনপ্রতি ২৫ টাকা পরিশোধ করে যে কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারে। তবে পিকনিক স্পটের জন্য আলাদাভাবে ফি জমা দিতে হয়

কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকা শহর থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশ পথে রাজশাহী যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকার মহাকালী, আব্দুল্লাহপুর, গাবতলী কল্যাণপুর থেকে গ্রীন লাইন, একতা এবং দেশ ট্রাভেলসের এসি বাস ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা ভাড়ায় রাজশাহীর উদ্দেশ্যে যাতায়াত করে। আর শ্যমলি, হানিফ, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, বাবলু এন্টারপ্রাইজ প্রভৃতি নন-এসি বাস ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা ভাড়ায় চলাচল করে

কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে সিল্কসিটি, ধুমকেতু, বনলতা এবং পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেন রাজশাহীর পথে চলাচল করে। ট্রেনের শ্রেণীভেদে ভাড়া পড়বে ৩৪০ থেকে ১২২৩ টাকা। এছাড়া কম সময়ে রাজশাহী যেতে চাইলে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স নভোএয়ারের ফ্লাইটে রাজশাহী যেতে পারবেন

রাজশাহী শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র কিলোমিটার দূরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় পুলিশ লাইনের পূর্ব দিকে রাজশাহী জাতীয় উদ্যান চিড়িয়াখানা অবস্থিত। শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে রিকশা বা অটোতে চড়ে সহজে এই উদ্যানে যেতে পারবেন

কোথায় থাকবেন

রাত্রিযাপনের জন্য রাজশাহী শহরের উল্লেখযোগ্য আবাসিক হোটেলের মধ্যে রয়েছে পর্যটন কর্পোরেশন মোটেল, হোটেল গ্রিন সিটি ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল স্টার ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল এবং মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল

কোথায় খাবেন

পার্কের আশেপাশে বেশকিছু ভালো মানের রেস্তোরা রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী শহরের বিভিন্ন মানের ফাস্টফুড, চাইনিজ বাংলা খাবারের রেস্তোঁরা পাবেন